

ফ্রিল্যান্সিং হলো কোনো ব্যক্তির অধীনে বা কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করে মুক্তভাবে নিজের ইচ্ছেমতো চুক্তিভিত্তিক কাজ করে অর্থ উপার্জন করা। ফ্রিল্যান্সিং মূলত এমন একটি পেশা যেখানে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করে আয় করা যায়। এখানে ধরা বাধা কোনো অফিস টাইম নেই, আর অফিসে যাওয়ারও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যারা এভাবে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ি স্বাধীনভাবে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে, তারাই হচ্ছে ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সিং শব্দটি আজকাল অনেক বেশি শোনা গেলেও ফ্রিল্যান্সিং কিন্তু নতুন কোনো বিষয় নয়। ফ্রিল্যান্সিং করে আসছে মানুষ বহু বছর ধরে। যেমন ধরুন- গ্রামাঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে প্রচুর শ্রমিক পাওয়া যায়, যারা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের চুক্তিতে জমির ধান কেটে দেয়। এই ধান কাটার শ্রমিকরাও এখানে ফ্রিল্যান্সার। আবার ধরুন- বাসার গেটের চাবি হারিয়ে ফেলেছি। ঘরে ঢুকতে পারছি না। তখন আমরা তালা ভাঙার জন্য বা নতুন চাবি বানানোর জন্য মিস্ত্রি নিয়ে আসি। এই মিস্ত্রিও একজন ফ্রিল্যান্সার। সে তার অভিজ্ঞতা আর দক্ষতা দিয়ে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কাজটা করে টাকা উপার্জন করছে। আজকাল বিয়ে, জন্মদিন এর মত পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফার বা ক্যামেরাম্যান নিয়ে আসা হয়, যারা অনুষ্ঠানের স্থিরচিত্র বা ভিডিও করে থাকে। এই ফটোগ্রাফার বা ক্যামেরাম্যানরাও এখানে ফ্রিল্যান্সার।
বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিপুল পরিমাণ লোক এ পেশায় নিয়োজিত হয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। তাই ফ্রিল্যান্সিং বা ফ্রিল্যান্সার শব্দটি এখন পেয়েছে এক নতুন মাত্রা। এখন ঘরে বসে মোবাইল বা কম্পিউটারে কাজ করে আয় করাটাকেই আমরা ফ্রিল্যান্সিং বলছি। যারা এভাবে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ি স্বাধীনভাবে কাজ করে অর্থ উপার্জন করছে, তাদেরকেই বলা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সার। আর যারা ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় তারা হচ্ছে বায়ার (Buyer) বা ক্লাইন্ট (Client)। বিষয়টা একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যেতে পারে। যেমন ধরুন- আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। এ বিষয়ে আপনার যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে। অন্যদিকে রহমান সাহেবের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাচ্ছেন। আপনার সাথে কোনো একটা মাধ্যমে তার যোগাযোগ হলো। আপনার সাথে তার চুক্তি হলো বিশ হাজার টাকায় ওয়েবসাইট তৈরি করে দিবেন, সময় লাগবে পনেরো দিন। আপনি আপনার সুবিধামতো সময়ে কাজ করে ১৫ দিনে ওয়েবসাইটটি তৈরি করে তাকে বুঝিয়ে দিলেন। তিনিও ওয়েবসাইট বুঝে পেয়ে আপনাকে চুক্তি অনুসারে বিশ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিলেন। এখানে রহমান সাহেব কিন্তু আপনার চাকরিদাতা নন। রহমান সাহেবের সাথে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, নির্দিষ্ট কাজের বিষয়ে আপনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তিনি হচ্ছেন একজন বায়ার (Buyer) বা ক্লাইন্ট (Client), আর আপনি হচ্ছেন ফ্রিল্যান্সার (Freelancer)।

