

ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি পেশা যেখানে কোনো ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করে মুক্তভাবে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করে আয় করা যায়। এখানে ধরা বাধা কোনো অফিস টাইম নেই, আর অফিসে যাওয়ারও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ফ্রিল্যান্সারদের কাজের নির্দিষ্ট কোন স্থান নেই। ঘরে বসেই কাজ করা যায়। ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য সময়ও নির্ধারিত নেই। নিজের সুবিধামত সময়ে কাজ করা যায়। ফ্রিল্যান্সারদের কাজের সুযোগ শুধুমাত্র নিজ এলাকা বা দেশে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বায়নের এই যুগে ইন্টারনেটের ব্যবহার, প্রচার ও প্রসারের কারণে ঘরে বসেই অনলাইন মার্কেটপ্লেসের (Marketplace) মাধ্যমে বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ করে প্রচুর টাকা উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছে। একারণেই বর্তমান সময়ে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিপুল পরিমাণ লোক এ পেশায় নিয়োজিত হয়ে সুন্দর ক্যারিয়ার গঠণ করছে।
ইংরেজি জানা না থাকলে কি ফ্রিল্যান্সিং করা যাবে?
আপনি যদি লোকাল কাজ করেন, আপনাকে খুব একটা ইংরেজি না জানলেও হবে। তবে মার্কেটপ্লেসে বিদেশি বায়ারদের সাথে কাজের ক্ষেত্রে, কাজের দক্ষতার পাশাপাশি কমিউনিকেশন স্কিলও যথেষ্ট গুরুত্ব রাখে। আপনাকে বায়ারের রিকোয়ারমেন্ট বুঝতে হবে, তার সাথে চ্যাট করতে হবে, প্রয়োজনে অডিও বা ভিডিও কলে মিটিং করতে হবে। যেহেতু অধিকাংশ বায়ারই কথা বলবে ইংরেজিতে, তাই আপনারও ইংরেজিতে মোটামুটি দক্ষতা থাকতে হবে। আপনি যদি ইংরেজি না জানেন, তাহলে আপনি বায়ারের রিকোয়ারমেন্ট বুঝতে পারবেন না, কাজ পাওয়ার জন্য বায়ারকে ম্যানেজ করতে পারবেন না, কাজের প্রয়োজনে বায়ারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন না। সবদিক বিবেচনায় আপনাকে প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এজন্যই মার্কেটপ্লেসে বিদেশি বায়ারদের সাথে কাজ করতে হলে, আপনার ইংরেজির উপর কম বেশি দক্ষতা থাকতে হবে। আর ইংরেজিতে কতটুকু দক্ষতা প্রয়োজন সেটা আসলে নির্ভর করে আপনি কি ধরনের কাজ করছেন, এটার উপর। আপনি যদি কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করে থাকেন, তাহলে ইংরেজিভাষী আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলার জন্য বা মেইল বা ম্যাসেজে রিপ্লাই দেয়ার জন্য আপনার ইংরেজি ভাষায় যথেষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে। অবশ্য টেকনিক্যাল সাপোর্টের ক্ষেত্রে আপনি মোটামুটি লেভেলের ইংরেজি জানলেই অনেকটা উতরে যেতে পারবেন। কারণ তখন ক্ষেত্রবিশেষ আপনার ভাষাগত জ্ঞানের চেয়ে টেকনিক্যাল স্কিল একটু বেশি প্রাধান্য পাবে। আপনি যদি ইংরেজিতে কনটেন্ট রাইটার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান, আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে লেখালেখি করার মত দক্ষতা থাকতে হবে। আবার আপনি যদি ডাটা এন্ট্রি, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন বা ওয়েবসাইট ডিজাইনের মতো কাজ করতে চান, তাহলে ক্লাইন্টের রিকোয়ারমেন্ট বোঝার জন্য বা তার সাথে যোগাযোগের জন্য মোটামুটি মানের ইংরেজি জানতে হবে।



